অর্গানিক ফুড এর বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান।আপনাদের বিশ্বাস ই আমাদের আশ্বাস। দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী

আপনার পছন্দের পণ্যটি সিলেক্ট করুন।

অর্ডার করতে নিচের ফর্মটি পূরণ করুন

Billing details
Your order
Product Subtotal
img

সুন্দরবনের খলিশা ফুলের মধু 1 kg

×(1)

980 ৳
Subtotal 980 ৳
Shipping
Total 1080 ৳
আমাদের মধু কেন নিবেন

আমরা সুন্দরবনের গহীন থেকে এবং মাঠ পর্যায়ে থেকে সংগ্রহ করে তারপর আপনাদের কাছে মধু সরবরাহ করি। সুতরাং এখানে ভেজাল করার মত মাঝখানে কোন মাধ্যম নাই। কারণ সাতক্ষীরা মধুভাণ্ডার অচেনা অ যাচাইকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে অ যাচাইকৃত মধু কিনে তারপর আপনাদের কাছে সাপ্লাই দেয় না। নিঃসন্দেহে পছন্দ করতে পারেন আমাদের পণ্য। আমরা আপনাদের ওয়াদা দিয়েছি ইনশাআল্লাহ ভেজাল পন্য দিবনা।আর ওয়াদা ভঙ্গ করা মুনাফিকের লক্ষণ। সুতরাং কথা কাজে মিল পাবেন ইনশাআল্লাহ। ⁉ভেজাল দেইনা হারাম খাইনা ⁉

খলিশা ফুলের মধুর উপকারিতা

খলিশা ফুলের মধুকে পদ্ম মধু বলা হয়। এর দ্বারা একে অনেক উৎকৃষ্ট মানের মধু হিসেবে বিবেচিত করা হয়ে থাকে। মূলত খলিশা ফুলের মধু অনেক বেশি সুস্বাদু ও মিষ্টি ঘ্রাণ যুক্ত হয়ে থাকে। যে কারণে সবাই এই মধু অনেক বেশি পছন্দ করে। অন্যদিকে খলিশা ফুলের মধুর ব্যাপক স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে যা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো। হৃৎপিণ্ড সুস্থ রাখে হৃৎপিণ্ড একটি প্রাণীর জন্য সব থেকে বড় পাওয়ার হাউজ। এখানে সমস্যা দেখা দিলে প্রাণী যেমন নিস্তেজ হয়ে যায় তেমনি ধীরে ধীরে প্রাণ হারিয়ে ফেলে। এই জন্য আমাদের এই অঙ্গের যত্ন নিতে হয়। তো আমরা প্রতিদিন যে ধরনের খাবার গ্রহণ করি ও যে পদ্ধতিতে জীবন পরিচালনা করি তাতে হৃৎপিণ্ড এবং এর স্বাস্থ্যের অনেক ক্ষতি হয়। এই ক্ষতি কমানোর জন্য আমাদের প্রয়োজন হয় উৎকৃষ্ট মানের টনিক। খলিশা ফুলের মধু হৃৎপিণ্ড এবং এর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। রক্তের উপাদান বৃদ্ধি করে এই মধু নিয়মিত সেবন করলে রক্তে থাকা হিমোগ্লোবিন সহ অন্যান্য উপাদানের অভাব পূরণ হয়। অর্থাৎ এই মধু নিয়মিত খেলে রক্তের উপাদান সঠিক মাত্রায় উৎপন্ন হয় এবং তা স্বাভাবিক রক্ত চলাচল নিশ্চিত করে। হজম বৃদ্ধি করে মধুকে একটি উৎকৃষ্ট মানের হজমবর্ধক বলা হয়। এর প্রধান কারণ হচ্ছে মধু প্রাকৃতিকভাবে এনজাইমের কারখানা হিসেবে পরিলক্ষিত হয়। বিশেষ করে খালি পেটে মধু খেলে তা পেটের মধ্যে থাকা দূষিত গ্যাস বের করে দেয়। এতে থাকা এনজাইমগুলো হজম কোষ গুলোকে সচল করে এবং প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করে। এই কারণে যখন হজম শক্তি কমে যায় তখন নিয়মিত খলিশা ফুলের মধু খেলে হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে কোষ্ঠকাঠিন্য একটি মারাত্মক সমস্যা। এটি ধীরে ধীরে দেহে নানা সমস্যার সৃষ্টি করে। বিশেষ করে পেটের জ্বালাপোড়া, আলসার ইত্যাদি সমস্যার পেছনে কোষ্ঠকাঠিন্য দায়ী। এই সমস্যা থেকে নিরাপদ থাকতে আমাদের সবসময় তরল ও নরম খাদ্য গ্রহণ করতে হয়। তবে যদি কোনো কারণে এই সমস্যা হয়ে যায় তাহলে খলিশা ফুলের মধু সেবনে ভালো উপকার পাওয়া যায়। শক্তিবর্ধক হিসেবে কাজ করে মানবদেহে শক্তি বৃদ্ধি করার জন্য প্রয়োজন হয় নিয়মিত পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণের। কারণ পুষ্টিকর খাদ্য থেকে দেহে প্রয়োজনীয় আমিষ, শর্করা, ভিটামিন এবং খনিজ প্রবেশ করে। এগুলো ক্যালোরি আকারে দেহের শক্তি বৃদ্ধি করে। তো সেই প্রাচীন কাল থেকেই মধুকে একটি শক্তিবর্ধক হিসেবে সেবন করা হয়। বিশেষ করে খলিশা ফুলের খাঁটি মধু অনেক পুষ্টি সম্পন্ন একটি মধু। এতে থাকে পুষ্টি উপাদান দেহের পুষ্টির তারতম্য ঠিক করে ও নিয়মিত সেবনে নিয়ন্ত্রণ করে। ফুসফুসের সমস্যা দূর করে মধু ফুসফুসের সমস্যা দূর করার জন্য একটি প্রাকৃতিক উপাদান। যক্ষ্মা থেকে শুরু করে ফুসফুসের ইনফেকশন সহ প্রায় সকল ধরনের সমস্যার সমাধান করার পেছনে মধু কাজ করে। বিশেষ পদ্ধতিতে ও সঠিক উপাদান মিশ্রিত করে খলিশা ফুলের মধু দিয়ে ফুসফুসের সমস্যার নিরাময় করা সম্ভব। দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে ধারণা করা হয়ে থাকে গাজর গুঁড়ো করে তা খলিশা ফুলের মধুর সাথে মিশিয়ে খেলে তা দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। আমাশয় দূর করে পেটের এই জটিল রোগ ঠিক করার জন্য মধু অনেক ভালো কাজ করে। বলা হয়ে থাকে বরই গাছের ছালের গুঁড়ার সাথে খলিশা ফুলের মধু মিশিয়ে খেলে আমাশয় অনেক দ্রুত ভালো হয়ে যায়। তাছাড়া আমাশয় দূর করার জন্য বেল এবং আমের বাকলের সাথে মধু মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়। পেটের প্রদাহ দূর করে সুন্দরবনের খলিশা ফুলের মধুতে প্রচুর পরিমাণে এন্টিমাইক্রোবিয়াল থাকে। যেগুলো পেটের নানা ধরনের পিরা থেকে মুক্ত রাখে। তাছাড়া দেহের যে কোন ঘা ও ব্যথা দূর করার জন্য খলিশা ফুলের মধু অনেক ভালো কাজ করে। রূপচর্চায় উপকার করে মধু একটি প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার। অর্থাৎ ত্বকের যত্ন নেওয়ার জন্য যে যে প্রাকৃতিক উপাদান প্রয়োজন তার সবকিছু সুন্দরবনের খলিশা ফুলের মধ্যে উপস্থিত। এই কারণে বিভিন্ন রূপচর্চার জিনিসপত্র তৈরি করার সময় মধু ব্যবহার করা হয়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৃদ্ধি করে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য সুন্দরবনের খলিশা ফুলের কোনো জুড়ি নেই। এতে থাকা এন্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান দেহের মধ্যে থাকা জীবাণু ধ্বংস করে এবং রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে খলিশা ফুলের মধু রক্ত চলাচল স্বাভাবিক করে যে কারণে এর প্রবাহ স্বাভাবিক থাকে। যা উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে এবং হৃৎপিণ্ডের কার্যক্ষমতা স্বাভাবিক রাখে। কফের সমস্যা দূর করে ঠাণ্ডার সমস্যা দূর করতে প্রাচীন কাল থেকেই মধুর ব্যবহার হয়ে আসছে। বিশেষ করে সুন্দরবনের খাঁটি মধু যে কোনো কফের সমস্যা দূর করার জন্য পারদর্শী।

খলিশা ফুলের মধু কীভাবে খাবেন?

মধু খাওয়ার সব থেকে উৎকৃষ্ট সময় হচ্ছে খালি পেটে। সাধারণত প্রতিদিন সকালে এবং ঘুমানোর ঠিক এক বা দুই ঘণ্টা আগে মধু খাওয়া উত্তম। এছাড়া রুটির সাথে অথবা শরবত বানিয়ে যে কোন সময় তা খাওয়া যেতে পারে। সুন্দরবনের খলিশা ফুলের মধু যে কোনো সময় খাওয়া যায়। তবে অবশ্যই পরিমাণ মত এবং গরম পানি ব্যতীত খেতে হবে। নিচে আরও কি কি উপাদানের সাথে এই মধু খাওয়া যায় তা দেওয়া হলো। চিনির বিকল্প হিসেবে খলিশা ফুলের মধু খাওয়া যায়। শরবতের সাথে এই মধু খাওয়া যায়। রুটি অথবা পিঠার সাথে এই মধু খাওয়া যেতে পারে। জেলি হিসেবে খাও যাবে। ঔষধ হিসেবে সেবন করা যায় উপরে বর্ণিত পদ্ধতি বাদেও আরও অনেক ভাবেই এই মধু খাওয়া যায়। তবে সর্বোচ্চ পরিমাণ ফলাফল ও উপকারিতা পেটে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে অথবা রাতে ঘুমানোর আগে খাওয়া উত্তম।

সুন্দরবনের খলিশা ফুলের মধুর ৭ টি বৈশিষ্ট্যঃ

দেখতে সাধারণত Light Amber রঙের হয় (তবে সময় ও ফুল ভেদে কিছুটা Light বা Dark হতে পারে)। খেতে খুবই সুস্বাদু, হালকা টকটক মিষ্টি লাগে। কিছু মানুষের কাছে- সুন্দরবনের মধু অনেকটা আখের রসের মতো লাগে। মধুর ঘনত্ব সবসময় পাতলা হবে (আমরা কখনই সুন্দরবনে ঘন মধু পাইনি)। সুন্দরবনের মধুর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- একটু ঝাঁকি লাগলেই প্রচুর পরিমাণে ফেনা হয়ে যাবে। সুন্দরবনের খাটি মধু আমরা কখনই জমতে দেখনি। হোক সেটা ফ্রিজের ভেতরে বা বাইরে। এই মধুর আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- হাতে চাক কাটা পদ্ধতিতে সংগ্রহ করা মধুর উপরে হলুদ রঙের পোলেন জমা হয়। এটাকে অনেকে গাদ জমা বলে থাকেন।

খলিশা ফুলের মধু চেনার উপায়

সুন্দরবনকে মধুর রাজ্য বলা হয়। আমাদের দেশের মত মধুর চাহিদার কমপক্ষে ৮০% পূর্ণ হয় সুন্দরবনের মধু দিয়ে। সাধারণত এই বনে নানা ধরনের ফুল ফোটে যা থেকে দেশের সব থেকে উৎকৃষ্ট মানের মধু হয়। যাইহোক, আমরা সুন্দরবনের মধু বলতে সাধারণত মিশ্র মধুকে বুঝে থাকি। অর্থাৎ সুন্দরবনের মধুতে পশুর, কেওড়া বাইন ও খলিশা ইত্যাদি ফুলের মধু মিশ্রিত থাকে। তবে এই মিশ্র মধুর ভিড়ে সুন্দরবন থেকে দেশের সব থেকে বেশি দামি এবং সুস্বাদু খলিশা ফুলের মধু পাওয়া যায়। বনবিভাগের মতে প্রতি বছরের মার্চ মাসের শুরুতে সুন্দরবনে প্রায় সকল গাছে মুকুল আসে। কিন্তু সেই সময় সবার প্রথমে খলিশা ফুল ফোটে। অন্যান্য গাছে মুলুক থাকলেও সেগুলোতে দেরিতে ফুল ফোটে। সাধারণত এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সেই সময় দলে দলে মৌমাছি চাক তৈরি করে তাতে খলিশা ফুলের মধু সংগ্রহ করে। খলিশা ফুল দেখতে উজ্জ্বল সাদা বর্ণের। এই ভুলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটি থেকে অনেক সুন্দর মিষ্টি গন্ধ আসে। এই জন্য খলিশা ফুলের মধু দেখতে পাতলা সাদা বর্ণের হয় এবং তা থেকে অনেক সুন্দর মিষ্টি গন্ধ আসে। সুন্দরবনে খলিশা ফুলের মধু সংগ্রহ শুরু হয় পহেলা এপ্রিল থেকে যা পুরো দুই মাস ব্যাপী চলে। এই সময় মৌয়ালরা দল বেঁধে বনের ভেতরে যায় এবং যে যা পারে সে অনুপাতে মধু সংগ্রহ করে। খলিশা ফুলের মধু এত বেশি দামি হওয়ার পেছনে কারণ হচ্ছে এর উৎপাদন খুব সীমিত পরিমাণে হয়। অর্থাৎ মিশ্র ফুলের মধুর থেকে এর চাক খুব কম হয় যে কারণে দামের দিক দিয়ে এটি অনেক উপরে। তাছাড়া এই মধু অনেক বেশি মিষ্টি হয়ে থাকে। উচ্চ পরিমাণে মিষ্টি স্বাদ এবং স্বল্প জোগানের সাথে খলিশা ফুলের মধুর অনেক উপকারিতা রয়েছে। নিচে এই ফুলের উপকারিতাগুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

খলিশা ফুলের মধু : সুন্দরবনের খলিশা ফুলের মধুর বৈশিষ্ট্য ও উপকারিতা

এই নিবন্ধে আমরা খলিশা ফুলের মধু সম্পর্কে আলোচনা করব এবং জানব কিভাবে এটি পুরোপুরি নিজস্ব উৎস থেকে উৎপাদিত হয়। এছাড়াও আমরা জানব কিভাবে এটি স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এবং এর পার্শ্ব প্রভাব কি। খলিশা ফুল একটি সুন্দর ফুল যা সাধারণত বৈজ্ঞানিক নাম হিমেরীকে পেতে। এই ফুলটি বিভিন্ন দেশের প্রাকৃতিক উৎসগুলোতে পাওয়া যায়। খলিশা ফুল থেকে তৈরি মধু ব্যপকভাবে ব্যবহৃত হয় এবং এর ব্যবহার স্বাস্থ্যকর উপকারিতা বিশিষ্ট হয়। ‘মৌমাছি, মৌমাছি, কোথা যাও নাচি নাচি দাঁড়াও না একবার ভাই, ঐ ফুল ফুটে বনে, যাই মধু আহরণে, দাঁড়াবার সময়তো নাই…’। কংক্রিটের এই শহরে মৌমাছির দেখা মেলা ভার হলেও গ্রামীণ জীবনে এখনও নবকৃষ্ণ ভট্টাচার্যের বিখ্যাত ছড়া ‘কাজের লোক’-এর মতো মৌমাছিরা ফুলে-ফুলে ঘুরে-ঘুরে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করে । নগরীর ব্যস্ত আর জানজটে জরাজীর্ণ জীবনে মৌমাছি মধু না খুঁজলেও খাঁটি মধু কম-বেশি আমরা সবাই খুঁজে ফিরি। বাজারে বিভিন্ন ধরণের মধু পাওয়া গেলও সুন্দরবনের মধুর আবেদনই সবসময় বেশি। বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনকে বলা হয় মধুর স্বর্গরাজ্য। মানের দিক থেকে সুন্দরবনে তিন প্রকারের মধু সংগ্রহ করা হয়, যারমধ্যে খলিশা ফুলের পদ্ম মধু, গরান ও গর্জন ফুলের বালিহার মধু এবং মৌসুমের একেবারেই শেষে আসে কেওড়া ও গেওয়া ফুলের মধু। সাধারণত সুন্দরবনে যেসব গাছে ফুল ফুটে তারমধ্যে খলিশা, গড়ান, কেওড়া, বাইন গাছ উল্লেখযোগ্য । এছাড়াও আছে তরার কিরপি, ঢালচাকা, পশুর, ধুন্দল, গুঁড়ে, কাঁকড়া, কালোলতা, হরগোজা, গোল, জানা, বনলেবু, কেয়া, বাঁকঝাঁকা, হরিণআড়ু,লাটমে, সুন্দরী, ধানি, বাউলে লতা, কেওড়া, বাইন, গেওয়াসহ বহুরঙ ও ঢঙের ফুল। তবে সবচেয়ে দামী ফুল ধরা হয় খলিশা ফুলকে । কেননা খলিশা ফুল থেকে উৎপন্ন মধুর স্বাদ ও দাম অন্যান্য ফুল থেকে উৎপাদিত মধু থেকে বেশি। খলিশা ফুলের মধুকে বলা হয় সুন্দরবনের আশীর্বাদ। সুন্দরবন ছাড়া সারাদেশে অন্য কোথাও খলিশা ফুলের মধু আহরণ করা যায় না। সাদা রঙের ফুল খলিসা ফুটতে শুরু করে বাংলা মাস ফাল্গুন থেকে। খলিশা ফুলের গাছকে বলা হয় ‘হানিপ্লান্ট’। খলিশা গাছ সুন্দরবনের পশ্চিম বন বিভাগের সাতক্ষীরা রেঞ্জে বেশি পাওয়া যায়। সুন্দরবনে চৈত্র মাসে প্রথম যে মধুটা উৎপন্ন হয় তা হল খলিশা গাছের ফুলের হালকা লাল পদ্মা মধু । সাধারণত সুন্দরবনের ফুল ফোটা শুরু হয় লতা জাতীয় এক প্রকার গাছের ফুল দিয়ে। এরপর খলিশা ফুলে ছেয়ে যায় সুন্দরবন। মৌমাছি খলিসা ফুলের নির্জাস সংগ্রহ করে । ঠিক ওই সময়ে যে মধু মৌয়ালরা সংগ্রহ করে সেটাকেই খলিশার মধু বা পদ্ম মধু বলা হয়। প্রাকৃতিক নিয়মে সুন্দরবন মূলত পাঁচ ধরণের মধু পাওয়া যায়। এর মধ্যে খলিশা ফুল স্বল্প সময় স্থায়ী হয়ে । মার্চ-এপ্রিলে মাসে খলিশা গাছের সাদা ফুলে ভরে ওঠে সুন্দরবন । এসময় খলিশায় ছেয়ে থাকে বনের চারদিক, অন্য কোন ফুল ফুটেনা এসময় । মৌমাছিরা সেই খলিশা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে গাছে গাছে চাক বাঁধে। সেই ফুলের নির্জাস জমে যে মধু হয় সেটাই খলিশা ফুলের মধু। খলিসা ফুলের মধু সংগ্রহ করা খলিশা ফুল ফুটার সময়, চাকের মধু, প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করার মাধ্যমে। দিনের হিসাব কাজে লাগিয়ে দক্ষ মৌয়ালরা এক চাক থেকে মধু সংগ্রহ করেন। খলিসা মধুর স্বাদের বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ মনিরুজ্জামান খন্দকার বলেন , প্রত্যেক গাছের মধ্যেই বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্য থাকে। একারণে মধুর স্বাদের ভিন্নতা থাকে। খলিসা গাছের জেনেটিক বৈশিষ্ট্যও অন্য গাছ থেকে আলাদা। একারণে খলিসা গাছের মধু সুস্বাদু। খলিশা ফুলের মধুর গুণাগুণ ও উপকারিতা অন্য মধুর মতই শুধু পার্থক্য এর অতুলনীয় স্বাদ। এছাড়াও পেটের অসুখের জন্যে অত্যন্ত ভালো কাজ করে পদ্ম মধু । বিশেষ করে বাচ্চাদের পেটের অসুখের জন্যে। খুব তরল এবং অত্যন্ত সুস্বাদু আর দারুণ ঘ্রাণযুক্ত খলিশা ফুলের মধু পদ্ম মধু।

কেন আমাদের সাতক্ষীরা মধু ভাণ্ডারের মধু নিবেন?

সুন্দরবনে সাধারণত দুই ধরনের মধু পাওয়া যায়, যথা:- সুন্দরবনের বাক্সের মধু এবং সুন্দরবনের প্রাকৃতিক মধু। আমাদের কাছে দুটি মধুই আছে তবে এটি হচ্ছে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক মধু। প্রাকৃতিক মধু সংগ্রহের জন্য মৌয়ালরা বিভিন্ন নৌকাতে করে চাকের খোঁজে পাড়ি জমায় বনের গহীনে। সুন্দরবনের মধুতে খলিসা ও গরান ফুলের নির্যাস বেশি থাকে। এই মধু পাতলা এবং সুস্বাদু হয়। এছাড়াও, আমাদের মধু নিজস্ব মৌয়াল দ্বারা স্বাস্থ্যকর উপায়ে সংরক্ষণ এবং প্রক্রিয়াজাত করা হয়। তাই আপনি নিরাপদে আমাদের মধু খেতে পারেন। সুন্দরবনের মধু হল উচ্চ চাহিদা সম্পন্ন এবং আসল ফুডের খাদ্য আইটেমগুলির মধ্যে একটি, যা আপনাকে সর্বোচ্চ গুণগতমান এবং বিশুদ্ধতার নিশ্চয়তা প্রদান করে। সুন্দরবনের মধু আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য মহান স্বাস্থ্য উপকারিতা এবং প্রাকৃতিক নিরাময়মূলক বৈশিষ্ট্য রয়েছে কারণ মধুতে প্রকৃতি থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে।

সুন্দরবনের মধু, প্রাকৃতিক মধু, লিচু, খলিশা, সরিষা,কালোজিরা ফুলের মধু

মধু প্রকৃতির একটি অনেক বড় উপহার। প্রাকৃতিক উপায়ে আমাদের দেহে শর্করা তৈরি করার জন্য এর কোন বিকল্প নেই। বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রজাতির মধু পাওয়া যায়। এদের মধ্যে স্বাদের যেমন ভিন্নতা থাকে তেমনি রং এবং গন্ধেরও ভিন্নতা থাকে। আমাদের আজকের লেখায় বাংলাদেশে প্রচলিত কিছু বিখ্যাত প্রাকৃতিক মধুর পরিচিতি ও বৈশিষ্ট্য বিস্তারিত আলোচনা করা হলো। মধু কত প্রকার কি কি? মৌমাছি ফুল থেকে যে নেকটার সংগ্রহ করে তা তাদের হানি স্টমাক থেকে এনজাইম দ্বারা প্রোসেসিং হয়ে মধু তৈরি করে। মধু সাধারণত প্রাকৃতিক এবং কৃত্রিম দুই উপায়ে তৈরি হয়। এদের মধ্যে প্রাকৃতিক মধু হলো খাঁটি মধু অন্যদিকে কৃত্রিম মধু ভেজাল হয়ে থাকে। কোন ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করা হবে তার উপর নির্ভর করে এর প্রকারভেদ কত প্রকার ও কি কি হবে। অর্থাৎ মৌমাছি বিভিন্ন ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে এবং তাদের গন্ধ ও স্বাদ ভিন্ন হয়। অতএব প্রাকৃতিক ভাবে বিভিন্ন প্রকারের মধু পাওয়া যায়। নিচে বাংলাদেশের বিখ্যাত কিছু মধুর বর্ণনা দেওয়া হলো। প্রাকৃতিক মধু প্রকৃতি থেকে আসা সকল মধুকেই প্রাকৃতিক মধু বলা হয়। তবে এই নামে সব থেকে বেশি প্রচলিত হলো সুন্দরবনের প্রাকৃতিক মধু। বছরের সব সময় এই মধু পাওয়া গেলেও ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস সুন্দরবনের মধু সংগ্রহের উৎকৃষ্ট সময়। কারণ এই সময় তাতে মৌমাছি সুন্দরবনে থাকা খলিশা ফুল থেকে বেশি মধু সংগ্রহ করে। বিশেষত মধু সংগ্রহ করার জন্য মৌয়ালরা নৌকায় করে সুন্দরবনের গহিনে চলে যায়। সব থেকে বেশি মৌমাছির চাক গহিন বনেই পাওয়া যায়। সে গুলো সাধারণ চাকের থেকে অনেক বড় ও বেশি মধু সমৃদ্ধ হয়। পুরো দেশে এই মধুর চাহিদা সব থেকে বেশি থাকে। যদিও ভেজাল মধু তৈরি করে তা সুন্দরবনের খাঁটি মধু হিসেবে চালিয়ে দেওয়া হয় তবে ভালো করে পর্যবেক্ষণ করলে খাঁটি মধু চেনা যায়। লিচু ফুলের মধু মধ্য মে থেকে মধ্য জুন এই সময়ে বাংলাদেশে লিচুর সময়। লিচু খেতে যেমন সুস্বাদু ও ভিটামিন সি যুক্ত ঠিক তেমনি এর ফুল থেকে সংগ্রহ করা মধু অনেক সুস্বাদু। লিচু ফুলের মধু দেখতে এর ভেতরে নেক্টারের মাত্রার উপর নির্ভর করে হালকা হলুদ বা গাঁড় হলুদ হতে পারে। এই মধু স্বাদে এবং গন্ধে লিচু ফলের মতই। হালকা ঘনত্বের লিচু ফুলের মধুতে ফেনা হলেও বেশি ঘনত্বের মধুতে কোনো ফেনা হয় না। সংগ্রহ করার কিছু সময়ের মধ্যে এর ভেতর কি পরিমাণ নেক্টার উপাদান উপস্থিত তার উপর নির্ভর করে হালকা বা বেশি মাত্রায় জমে যেতে পারে। লিচু ফুলের মধুতে সাধারণত শর্করা, গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ থাকে। এগুলো ছাড়াও অল্প পরিমাণে ভিটামিন সি সহ মিনারেল, এনজাইম, ভিটামিন বি১, বি২, বি৩, বি৫, বি৬, থায়ামিন এবং নিয়াসিন থাকে। এই উপাদান গুলো লিচু ফুলের পুষ্টিগুণ অনেকাংশে বৃদ্ধি করে। অন্যদিকে এই মধু খেলে শারীরিক বিভিন্ন ধরনের উপকার পাওয়া যায়। লিচু ফুলের মধুর গ্রেডের উপর নির্ভর করে স্বাদ পরিবর্তন হতে দেখা যায়। শুরুর দিকে সব গ্রেডের মধু মিষ্টি স্বাদের হলেও সময়ের সাথে সাথে সি গ্রেডের মধু মুখে হালকা তেতো লাগতে পারে। তেতো লাগলেই যে তা ভেজাল মধু তা কিন্তু ভাবা যাবে না। কারণ গ্রেড নিম্ন হওয়ার কারণে এই রকম হয়ে থাকে। খলিশা ফুলের মধু পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ জংগল হল বাংলাদেশের সুন্দরবন। একে মধু সংগ্রহের কারখানাও বলা হয়। কারণ সুন্দরবনের ভেতরে রয়েছে অসংখ্য বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা। এগুলোর মধ্যে খলিশা ফুলের গাছ মধু উৎপাদন করার জন্য অন্যতম। প্রতিবছর সুন্দরবন থেকে যে পরিমাণ মধু সংগ্রহ করা হয় তার সবগুলোই খলিশা ফুলের মধু। সাধারণত খলিশা ফুলের অবয়ব দেখে একে পদ্ম ফুলের সাথে তুলনা করা হয় এবং এর থেকে সংগ্রহ করা মধুকে পদ্ম মধুও বলা হয়। যাইহোক, খলিশা ফুলের মধুর ঘনত্ব অনেক হালকা হয় এবং সামান্য ঝাঁকিতে তাতে ফেনা তৈরি হয়। এই মধু গন্ধে যেমন সর্ব উৎকৃষ্ট তেমনি খেতেও অনেক সুস্বাদু। এর গাছকে বলা হয় হানিপ্লান্ট এবং খলিশা ফুলের মধু দেশের আর কোথাও পাওয়া যায় না। এই কারণে এর দাম অন্যান্য সকল মধু থেকে বেশি। তবুও সারা দেশে এই মধুর চাহিদা সব থেকে বেশি। সরিষা ফুলের মধু গ্রামে গঞ্জে হর হামেশাই সরিষা ফুল ক্ষেতের দেখা পাওয়া যায়। মধু সংগ্রহ করার জন্য এই সময় মধু চাষিরা তাদের মধু সংগ্রহ করার বক্স খেতের পাসে স্থাপন করে। মৌমাছিগুলো তখন সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে বক্স গুলোয় জমা করে। বাংলাদেশে সাধারণত নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর মাসের মধ্যে সরিষার মধু সংগ্রহ করা হয়। সরিষা ফুলের মধু দেখতে হালকা উজ্জ্বল অ্যাম্বার রঙের হয়ে থাকে। এই মধুর ঘনত্ব হালকা হওয়ার কারণে তা একটু ঝাঁকি লাগলেই ফেনা হয়। তবে বছরের বেশিরভাগ সময় এই মধু জমে সাদা চিনির মত হয়ে থাকে। তবে জমাট বাঁধা মধু জিহ্বায় রাখলে গ্লুকোজের মত গলে যায়। যেহেতু সরিষা ফুল থেকে এই মধু সংগ্রহ করা হয় সেহেতু এর ঘ্রাণ অনেকটা সরিষার মতই লাগে। এই কারণে অনেকে এই মধু পছন্দ করলেও অনেকেই আবার অপছন্দ করে। তবে সরিষা ফুলের মধুর অনেক পুষ্টিগুণ রয়েছে। বিশেষ করে পেটের সমস্যা দূর করার পাশাপাশি এটি হার্টের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করে। সহজেই সংগ্রহ করা যায় জন্য এর দাম অপেক্ষাকৃত কম পাওয়া যায়। তাছাড়া খাঁটি সরিষা ফুলের মধু চেনা অনেক সহজ যা একে ভেজাল মুক্ত রাখতে সাহায্য করে। কালোজিরা ফুলের মধু কালোজিরাকে বলা হয় সকল রোগের মহৌষধ। এতে রয়েছে অকল্পনীয় পুষ্টিগুণ যা আমাদের শারীরিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে মোক্ষম ভূমিকা পালন করে। তো কালোজিরার ফুল থেকে সংগ্রহ করা মধুও স্বাদে গুনে অনন্য। যাইহোক, কালোজিরা ফুলের মধু দেখতে কালো রঙের হয়ে থাকে যার স্বাদ হুবহু খাঁটি খেজুরের গুড়ের মত। তাহলে বোঝাই যাচ্ছে এই মধু খেতে কেমন সুস্বাদু হবে। বরঞ্চ খেজুরের গুড় থেকে এই মধুর স্বাদ উৎকৃষ্ট। কালোজিরা মধুর ঘনত্ব পারিপার্শ্বিক আবহাওয়ার উপর নির্ভর করে। তবে আমাদের দেশে পাওয়া যায় এমন এমন কালোজিরার মধুতে ১৮% থেকে ২৫% পর্যন্ত জলীয় উপাদান থাকে। এই পরিমাণ জলীয় উপাদান থাকার ফলে এই মধুর ঘনত্ব সব থেকে বেশি না হলেও অনন্য মধুর থেকে গাঁড়। আমাদের দেশে সাধারণত ফেব্রুয়ারি মাসে এই মধু সংগ্রহ করা হয়। এই সময় বাএ অন্য সময়ে যে মধুই পাবেন তা একদম টাটকা হবে না। সুন্দরবনের মধু আমরা আগেই জেনেছি আমাদের দেশের সব থেকে বড় মধু সংগ্রহশালা হলো সুন্দরবন। এখানে হরেক প্রজাতির উদ্ভিদ থাকায় বিভিন্ন প্রকৃতির মধু পাওয়া যায়। যাদের মধ্যে পদ্ম মধু বা খলিশা ফুলের মধু অন্যতম। তবে খলিশা ফুল বাদেও এই বনে শেওড়া ও কেওড়া ফুলের মধুও পাওয়া যায়। বেশিরভাগ সময় অন্যান্য ফুলের মধু সহ খলিশা ফুল থেকে সংগ্রহ করার মধুর চাকে জমা করা হয়। এতে মধুর স্বাদ ও ঘ্রাণ খলিশা ফুলের মধুর মতই হয়। আমাদের দেশে সুন্দরবনের মধুর চাহিদা সব থেকে বেশি। এই মধু সারাদেশে অন্যান্য মধুর থেকে বেশি দামে বিক্রি হয়। সুন্দরবনের সাতক্ষীরা জোনের মধ্যে সব থেকে বেশি মধুর চাক পাওয়া যায়। মৌচাক সংগ্রাহকরা সেই মধু সংগ্রহ করে পুরো বাংলাদেশে তা সাপ্লাই করে থাকে। খাঁটি মধু শরীরের জন্য সব থেকে বেশি উপকারী। আমাদের আজকের লেখায় মধু কত প্রকার ও কি কি সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। আসা করি লেখাটি পরে বাংলাদেশের প্রচলিত বিখ্যাত মধু সম্পর্কে আপনার ধারণা আরও স্পষ্ট হবে। এছাড়াও মধু খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা সম্পর্কে আমাদের এই আর্টিকেল থেকে বিস্তারিত আরো অনেক কিছু জানতে পারেন। ধন্যবাদ

Raw Honey এবং Processing Honey কাকে বলে?

মৌমাছি যে মধু তৈরি করে মৌচাকে জমা করে, সেই মধুই হচ্ছে কাঁচা মধু বা ‘র হানি’। সেটা গ্রাম গঞ্জের হাতে চাক কাটা মধু হোক বা বাক্সের ভেতরে পোষা মৌমাছি দিয়ে উৎপাদিত মধু হোক। এই দুই প্রকার মৌমাছিই যদি ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে, তাহলে এই দুই প্রকার মধুই ভালো মধু, খাঁটি মধু। বাজারে বিক্রি হওয়া বেশিরভাগ মধু প্রক্রিয়াজাত মধু বা Processing Honey। কাঁচা মধু এবং প্রক্রিয়াজাত মধু , এই দুই মধুর মধ্যে স্পষ্ট অনেক পার্থক্য রয়েছে। প্রক্রিয়াজাত করা হয় মধু গরম করার মাধ্যমে। আর মধু গরম করলে মধুর অনেক উপকারিতা নষ্ট হয়ে যায় এবং অনেক সময় ক্ষতিকর হয়ে যেতে পারে। তাই আমাদের অবশ্যই চেষ্টা করতে হবে ভালো মানের Raw Honey বা কাঁচা মধু খাওয়ার জন্য।

সুন্দরবনের মধু কখন এবং কিভাবে সংগ্রহ করা হয়?

ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের মধু উৎপাদনের সময় সাধারণত মার্চ মাসের শেষের দিক থেকে জুন মাস পর্যন্ত। এই সময়ে সুন্দরবনে অনেক প্রকার ফুল ফুটতে দেখা যায়। প্রকৃতিতে অনেক প্রকার ফুল থাকলেও মৌমাছি প্রধান চারটি ফুল থেকে উল্লেখযোগ্য মধু সংগ্রহ করে। আর তাহলো- খলিশা, গড়ান, কেওড়া ও বাইন। মৌমাছি এই সময়ে সুন্দরবন থেকে যে মধু সংগ্রহ করে, আমরা তাকেই সুন্দরবনের মধু বলে থাকি।

সুন্দরবনের RAW মধু তে কেন ফেনা হয়?

সুন্দরবনের প্রাকৃতিক Raw মধুতে সব সময়ই ঝাঁকি লাগলে ফেনা হতে দেখা যায় ও সম্পূর্ণ মধু সাদা রঙের হয়ে যেতে পারে। যা দেখে একজন সাধারণ মধু ক্রেতা, মধু খাঁটি হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করেন। কিন্তু এই সন্দেহ টি একেবারেই সঠিক নয়। নিচে তার Scientific ব্যাখ্যা দেওয়া হলঃ সুন্দরবনের প্রাকৃতিক Raw মধুতে অ্যাক্টিভ এনজাইম, প্রোটিন এবং অ্যামিনো অ্যাসিড রয়েছে। এবং মধু একটি কার্বোহাইড্রেট জাতীয় পদার্থ যাতে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ থাকে। আর গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ- কার্বন, অক্সিজেন ও হাইড্রোজেনের সমন্বয়ে গঠিত। এ জন্য সুন্দরবনের প্রাকৃতিক Raw মধুতে যেহেতু সব সময়ই ময়েশ্চারের পরিমাণ বেশি থাকে, অর্থাৎ মধুর ঘনত্ব খুবই কম হয় বা মধু পাতলা হয়। যার ফলে মধু একটু ঝাঁকি লাগলে বা পাকেজিং করার সময় মধুর মধ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে কার্বন ডাইঅক্সাইড তৈরি করে। এতে মধুর মধ্যে বায়ু বুদবুদ সৃষ্টি হয় এবং একই সাথে মধু ফেনা হয়ে সাদা হয়ে যায় ও পাত্রের ভেতরে গ্যাস হয়ে যায়, তাই প্ল্যাস্টিক এর বোতল কিছুটা ফুলে যেতে দেখা যায়। মধুতে ফেনা তৈরি হলে সেটাকে কিছুক্ষণ স্থিরভাবে একই যায়গায় রেখে দিলে আবার সেই ফেনা মধুতে পরিণত হবে। এতে মধুতে কোন প্রকার ক্ষতি বা সমস্যা হবে না।

সুন্দরবনের মধু পাতলা হবার কারনঃ

সুন্দরবনের ভেতরে ছোটবড় অনেক খাল থাকায় এবং সমূদ্র তীরবর্তী হওয়ায় এখানকার পরিবেশে আদ্রতার পরিমান অনেক বেশি হওয়ায় মধুর উপর সরাসরি প্রভাব পড়ে বিধায় সুন্দরবনের মধু অনেক পাতলা হয়। পরিশেষে একটা কথা বলা দরকার, তা হল মধু পাতলা হোক আর ঘন হোক তাতে কোন সমস্যা নাই। মধুর গুনাগুন সব ঠিক থাকে।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ

আমার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার জ্ঞানে যা ছিলো তাই আপনাদের মাঝে শেয়ার করেছি। অবিজ্ঞ জনেরা যদি আমার এই কনটেন্ট এর মধ্যে কোনো ভুল খুঁজে পান তাহলে অবশ্যই জানাবেন দয়া করে। আপনার ছাত্র হতে পারলে আমি নিজেকে ধন্য মনে করবো।

RECOMMENDED FOR YOU

Sale 20%

খাঁটি খেজুরের গুড়

  • ৳1500 ৳ 1800

Sale 15%

চিয়াসিড 2KG

  • ৳980 ৳ 1127

সরিষা ফুলের মধু 1 কেজি

  • ৳490

বরই ফুলের মধু 500 gram

  • ৳340

Sale 10%

লিচু ফুলের মধু 2 kg

  • ৳1100 ৳ 1210