অর্গানিক ফুড এর বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান।আপনাদের বিশ্বাস ই আমাদের আশ্বাস। দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী

আপনার পছন্দের পণ্যটি সিলেক্ট করুন।

অর্ডার করতে নিচের ফর্মটি পূরণ করুন

Billing details
Your order
Product Subtotal
img

250 গ্রাম কালোজিরা তেল

×(1)

325 ৳
Subtotal 325 ৳
Shipping
Total 425 ৳
কালোজিরা তেলের উপকারিতা

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে স্মৃতিশক্তি বাড়ায় এবং হাঁপানি দূর করে মাথা ব্যথা থেকে মুক্তি দেয় জয়েন্টের ব্যথা কমায় রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে কিডনি রক্ষা করে দাঁত মজবুত করে

কালোজিরা তেল ব্যবহারের নিয়ম

এক চা চামচ কালোজিরার তেল সমপরিমাণ মধু বা এক কাপ রং চায়ের সাথে মিশিয়ে দৈনিক ৩বার খেতে হবে এবং রোগ সেরে না যাওয়া পর্যন্ত মাথায় ও ঘাড়ে মালিশ করতে হবে। এছাড়া এক চা-চামচ কালোজিরার সাথে তিন চা-চামচ মধু ও দুই চা-চামচ তুলসী পাতার রস মিশিয়ে খেলে জ্বর, ব্যথা, সর্দি-কাশি দূর হবে।

কালোজিরা তেলের ব্যবহার বিধি এবং উপকারিতা

কালোজিরা আয়ুর্বেদীয় , ইউনানী, কবিরাজী ওলোকজ চিকিৎসায় ব্যবহার হয়। মশলা হিসাবেও ব্যাপক ব্যবহার হয়ে থাকে। নিমকি বা কিছু তেলে ভাজা খাবারে ভিন্ন ধর্মী স্বাদ আনতে কালোজিরা বেশি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এছাড়া অনেকেই কালজিরার ভর্তা খেয়ে থাকেন। অনেকে আবার কালোজিরা খেতে পছন্দ করেন না। কিন্তু কালোজিরার ব্যবহারে খাবারে একটু ভিন্ন ধরনের স্বাদ নিয়ে আসে। যা কোন সীমাবদ্ধতা নেয়। এটি পাঁচ ফোড়নের একটি উপাদান। বীজ থেকে পাওয়া তেল। কালোজিরার বীজ থেকে তেল পাওয়া যায়। যা আমাদের শরীরের জন্য খুব উপকারী। ইসলাম ধর্মে কালোজিরার গুরুত্ব: ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা কালোজিরাকে একটি অব্যর্থ রোগ নিরাময়ের উপকরণ হিসাবে বিশ্বাস করে। এর সাথে একটি হাদিসজড়িত আছে। হাদিসটি হলো— ‘..আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “এ কালোজিরা সাম ব্যতীত সমস্ত রোগের নিরাময়। আমি বললাম: সাম কি? তিনিবললেন: মৃত্যু!” আমাদের আধুনিক ডাক্তারিশাস্ত্র আর ধর্মীয় অনুভূতি যাই বলি না কেন কালোজিরা সবখানে স্বমহিমায় উজ্জ্বল। চলুন জেনে নেওয়া যাক কালোজিরা মধ্যে লুকিয়ে হাজারো রহস্যময় গুনাগুন: কালোজিরা তেলের উপকারিতা: কালিজিরার তেলে ১০০টিরও বেশি উপযোগী উপাদান আছে। এতে আছে প্রায় ২১ শতাংশ আমিষ, ৩৮ শতাংশ শর্করা এবং ৩৫ শতাংশ ভেষজ তেল ও চর্বি। কালিজিরার অন্যতম উপাদানের মধ্যে আছে নাইজেলোন, থাইমোকিনোন ও স্থায়ী তেল। এতে আরও আছে আমিষ, শর্করাও প্রয়োজনীয় ফ্যাটি এসিডসহ নানা উপাদান। পাশাপাশি কালিজিরার তেলে আছে লিনোলিক এসিড, অলিক এসিড, ক্যালসিয়াম, টাশিয়াম, আয়রন, জিংক, ম্যাগনেশিয়াম, সেলেনিয়াম, ভিটামিন-এ, ভিটামিন-বি, ভিটামিন-বি২, নিয়াসিন ও ভিটামিন-সি। এর মধ্যে রয়েছে ফসফেট, লৌহ, ফসফরাস, কার্বোহাইড্রেট ছাড়াও জীবাণু নাশক বিভিন্ন উপাদানসমূহ। এতে রয়েছে ক্যন্সার প্রতিরোধক কেরোটিন ও শক্তিশালী হর্মোন, প্রস্রাব সংক্রান্ত বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধকারী উপাদান, পাচক এনজাইম ও অম্লনাশক উপাদান এবং অম্লরোগের প্রতিষেধক। কালোজিরায় যে রাসায়নিক উপাদানগুলো আছে: কালজিরার তেলে বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান বিদ্যমান আছে লিনোলিক, অলিক, স্টিয়ারিক, লিনোলিনিক,এসিড, প্রোটিন, নিজেলোন, গ্লুটামিক এসিড। এছাড়াও রয়েছে নিজেলিন, পটাসিয়াম, ফসফরাস, কেলসিয়াম, সোডিয়াম, মেগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, কপার, আয়রন,জিংক। কালোজিরার তেলের ব্যবহার বিধি: নানাবিধ ক্ষেত্রে কালোজিরা বা কালোজিরা তেল ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এ সকল ক্ষেত্রসমূহের কিছু উল্লেখ করা হলো। স্মরণ শক্তি বৃদ্ধিতে: এক চা চামচ পুদিনাপাতার রস বা কমলার রস বা এক কাপ রঙ চায়ের সাথে এক চা চামচ কালোজিরার তেল মিশিয়ে দিনে তিনবার করে নিয়মিত খেতে হবে তাহলে ভাল ফলাফল পাওয়া যাবে। এভাবে খেলে দুশ্চিন্ত দূর হবে। এছাড়া কালোজিরা মেধার বিকাশের জন্য কাজ করে দ্বিগুণ হারে। কালোজিরা নিজেই একটি অ্যান্টিবায়োটিক বা অ্যান্টিসেপটিক। মস্তিস্কের রক্ত সঞ্চলন বৃদ্ধির মাধ্যমে স্মরণ শক্তি বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে। দেহের সাধারণ উন্নতি: নিয়মিত কালোজিরা সেবনে শরীরের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে সতেজ করে ও সার্বিকভাবে স্বস্থ্যের উন্নতি সাধন করে। অরুচি, উদরাময়, শরীর ব্যথা, গলা ও দাঁতের ব্যথা, মাইগ্রেন, চুলপড়া, সর্দি,কাশি, হাঁপানি নিরাময়ে কালোজিরা অনেক সাহায্য করে থাকে। তাছাড়া ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসেবে কালোজিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। হজমের সমস্যা দূরীকরণে: হজমের সমস্যায় এক-দুই চা-চামচ কালিজিরা বেটে পানির সাথে খেতে হবে। এভাবে প্রতিদিন দু-তিনবার খেলে এক মাসের মধ্যে হজমশক্তি বেড়ে যাবে। পাশাপাশি পেট ফাঁপাভাবও দূর হবে। চুল পড়া বন্ধ করতে: চুল পড়া সমস্যা অনেক বড় একটি সমস্যা। এই ক্ষেত্রে কালিজিরা খেয়ে যেতে হবে, চুল পর্যাপ্ত পুষ্টি পাবে। ফলে চুল পড়া বন্ধ হবে। আরো ফল পেতে চুলের গোড়ায় এর তেল মালিশ করতে হবে। শান্তিপূর্ণ নিদ্রার জন্য: কালোজিরার তেল ব্যবহারে রাতভর প্রশান্তিপূর্ন নিদ্রা হবে। তাই যাদের ঘুমের সমস্যা আছে তারা কালোজিরা নিয়মিত খেতে পারেন। মাথা ব্যাথা নিরাময়ে: হঠাৎ মাথা ব্যথা হলে ১/২ চা চামচ কালোজিরার তেল মাথায় ভালোভাবে মালিশ করতে হবে এবং এক চা চামচ কালোজিরার তেল সমপরিমাণ মধুসহ দিনে তিনবার করে খেতে হবে। এটা ২/৩ সপ্তাহ খেলে ভাল হবে। এছাড়া মাথা ব্যথায় কপালের উভয় চিবুকে ও কানের চারিপাশে প্রতিদিন ৩/৪ বার কালোজিরা তেল মালিশ করলে উপকার পাওয়া যাবে। সর্দি সারাতে: এক চা চামচ কালোজিরার তেল সমপরিমাণ মধু বা এক কাপ রং চায়ের সাথে মিশিয়ে দৈনিক ৩বার খেতে হবে এবং রোগ সেরে না যাওয়া পর্যন্ত মাথায় ও ঘাড়ে মালিশ করতে হবে। এছাড়া এক চা-চামচ কালোজিরার সাথে তিন চা-চামচ মধু ও দুই চা-চামচ তুলসী পাতার রস মিশিয়ে খেলে জ্বর, ব্যথা, সর্দি-কাশি দূর হবে। সর্দি বসে গেলে কালিজিরা বেটে কপালে প্রলেপ দিন। একই সাথে পাতলা পরিষ্কার কাপড়ে কালিজিরা বেঁধে শুকতে হবে, শ্লেষ্মা তরল হয়ে ঝরে পড়বে। আরো দ্রুত ফল পেতে বুকে ও পিঠে কালিজিরার তেল মালিশ করতে হবে। স্বাস্থ্য ভাল রাখতে: মধুসহ প্রতিদিন সকালে কালোজিরা সেবনে স্বাস্থ্য ভালো থাকে ও সকল রোগ মহামারী হতে রক্ষা পাওয়া যায়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে: কালোজিরা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে। ফলে নিয়মিত কালোজিরা খেলে শরীরের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সতেজ থাকে। এতে করে যে কোন জীবানুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে দেহকে প্রস্তুত করে তোলে এবং সার্বিকভাবে স্বস্থ্যের উন্নতি করে। ১ চামচ কালোজিরা অথবা কয়েক ফোটা কালোজিরার তেল ও ১চামচ মধুসহ প্রতিদিন খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে। বাতের ব্যাথা দূরীকরণে: বাতের ব্যথা হলে সেখানে ভাল করে ধুয়ে পরিষ্কার করে তাতে কালোজিরার তেল মালিশ করতে হবে। এক চা- চামচ কাঁচা হলুদের রসের সাথে সমপরিমাণ কালোজিরার তেল সমপরিমান মধু বা এক কাপ রং চায়ের সাথে দৈনিক ৩বার খেতে হবে এটা ২/৩সপ্তাহ খেতে হবে। তাহলে ভাল ফলাফল পাওয়া যাবে। বিভিন্ন প্রকার চর্মরোগ সারাতে: যেখানে চর্ম রোগ সেই আক্রান্ত স্থানে ভাল করে ধুয়ে পরিষ্কার করে তাতে কালোজিরার তেল মালিশ করতে হবে। এক চা চামচ কাঁচা হলুদের রসের সাথে সমপরিমাণ কালোজিরার তেল, সমপরিমান মধু বা এক কাপ রং চায়ের সাথে দৈনিক ৩বার খেতেও হবে এটা ২/৩ সপ্তাহ খেতে হবে। হার্টের বিভিন্ন সমস্যার ক্ষেত্রে: কালোজিরার তেল হার্টে রুগীদের জন্য অনেক উপকারি। এক চা চামচ কালোজিরার তেল এবং এক কাপ দুধ প্রতিদিন ২বার করে খেতে থাকলে হার্টের সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা যাবে। সাথে কালোজিরার তেল দিয়ে বুকে নিয়মিত মালিশ করতে হবে। ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রনে রাখতে: প্রতিদিন সকালে রসুনের দুটি কোষ চিবিয়ে খেয়ে এবং সমস্ত শরীরে কালোজিরার তেল মালিশ করে সূর্যেরতাপে কমপক্ষে আধা ঘন্টা বসে থাকতে হবে। এবং এক চা-চামচ কালোজিরার তেল সমপরিমাণ মধুসহ প্রতি সপ্তাহে ২/৩ দিন খেতে হবে ফলে ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণ থাকবে। এছাড়া কালোজিরা বা কালোজিরা তেল বহুমুত্র রোগীদের রক্তের শর্করার মাত্রা কমিয়ে দেয় এবং নিম্ন রক্তচাপকে বৃদ্ধি করে উচ্চ রক্তচাপকে হ্রাস করে। অর্শ রোগ নিরাময়ে: এক চা-চামচ মাখন ও সমপরিমাণ তেল তিলের তেল, এক চা-চামচ কালোজিরার তেলসহ প্রতিদিন খালি পেটে ৩/৪ সপ্তাহ খেতে হবে। শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানি রোগ সারাতে: যারা হাঁপানী বা শ্বাসকষ্ট জনিত সমসসায় ভুগছেন। তাদের জন্য কালোজিরা অনেক বেশি উপকারী। প্রতিদিন কালোজিরার ভর্তা খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে। কালোজিরা হাঁপানি বা শ্বাস কষ্টজনিত সমস্যা উপশম করবে। এছাড়া এক কাপ চা-চামচ কালোজিরার তেল, এক কাপ দুধ বা রং চায়ের সাথে দৈনিক ৩বার করে নিয়মিত খেলেও অনেক উপকার হবে। ডায়বেটিক নিয়ন্ত্রণে: ডায়াবেটিকদের রোগ উপশমে বেশ কাজে লাগে কালিজিরা। এক চিমটি পরিমাণ কালিজিরা এক গ্লাস পানির সাথে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খেতে থাকলে অনেক উপকার পাওয়া যাবে। এই কালোজিরা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখবে। এছাড়া এক কাপ চা-চামচ কালোজিরার তেল, এক কাপ রং চা বা গরম ভাতের সাথে মিশিয়ে দৈনিক ২বার করে নিয়মিত খেলে একশত ভাগ ডায়বেটিক নিয়ন্ত্রণে থাকবে। যৌন শক্তি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে: কালোজিরা নারী পুরুষ উভয়ের যৌনক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে থাকে। প্রতিদিন কালোজিরা খাবারের সাথে খেলে পুরুষের স্পার্ম সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং পুরুষত্বহীনতা থেকে মুক্তির সম্ভাবনা তৈরি করে মধ্যপ্রাচ্যে প্রচলিত আছে যে, কালিজিরা যৌন ক্ষমতা বাড়ায় এবং পুরুষত্বহীনতা থেকে মুক্তি দিতে সহায়তা করে। একচা-চামচ মাখন, এক চাচামচ জাইতুন তেল সমপরিমাণ কালোজিরার তেল ও মধুসহ দৈনিক ৩বার ৪/৫ সপ্তাহ ধরে খেলে অনেক উপকার হবে। তবে পুরানো কালোজিরা তেল স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক। অনিয়মিত মাসিক সারাতে: এক কাপ কাঁচা হলুদের রস বা সমপরিমাণ আতপ চাল ধোয়া পানির সাথে এক কাপ চা-চামচ কালোজিরার তেল মিশিয়ে দৈনিক ৩বার করে নিয়মিত খেতে হবে। তাহলে অনেক ভাল কাজ হবে। মায়ের দুধ বৃদ্ধি করতে: যেসব মায়েদের বুকে পর্যাপ্ত দুধ নেই, তাদের মহৌষধ কালিজিরা। মায়েরা প্রতি রাতে শোয়ার আগে ৫-১০ গ্রাম কালিজিরা মিহি করে দুধের সাথে খেতে থাকতে হবে। মাত্র ১০-১৫ দিনে দুধের প্রবাহ বেড়ে যাবে। এছাড়া এ সমস্যা সমাধানে কালিজিরা ভর্তা করে ভাতের সাথে খেলেও ভাল হবে। এছাড়া একচা-চামচ কালোজিরার তেল সমপরিমাণ মধুসহ দৈনিক ৩বার করে নিয়মিত খেতে হবে। যা শতভাগ উপকারি। গ্যাষ্ট্রীক বা আমাশয় নিরাময়ে: এক চা-চামচ তেল সমপরিমাণ মধু সহ দিনে ৩বার করে ২/৩ সপ্তাহ ধরে খেতে হবে। তাহলে গ্যাস্টিক বা আমাশয়ের জন্য আর কষ্ট পেতে হবে না। ত্বকের আদ্রতার বাড়াতে: শীতকালে ত্বকের আদ্রতার জন্য বডি লোশনের পরিবর্তে শুধু কালোজিরার তেল অথবা জাইতুন (অলিভওয়েল) তেল এর সাথে কালোজিরার তেল মিশিয়ে সারা শরীরে সারা শরীরে মালিশ করতে হবে। যা আপনার বা আপনার শিশুর ত্বকের আদ্রতা ও লাবণ্যময় বৃদ্ধি করবে এবং চর্মরোগের ঝুঁকি কমাবে। বিশেষভাবে শিশুর ত্বকের জন্য এই পদ্ধতিতে সারা বছর ব্যবহার করতে পারেন। জন্ডিস বা লিভারের বিভিন্ন সমস্যার দূরীকরণে: লিভারের সুরক্ষায় ভেষজটি অত্যন্ত অসাধারন। লিভার ক্যান্সারের জন্য দায়ী আফলা টক্সিন নামক বিষ ধ্বংস করে কালিজিরা। যদি এক গ্লাস ত্রিপলার শরবতের সাথে এক চা-চামচ কালোজিরার তেল দিনে ৩বার করে ৪/৫ সপ্তাহ খেতে পারেন তাহলে অনেক ভাল ফলাফল পাবেন। পিঠের ব্যাথা দূর করতে: কালোজিরার থেকে যে তেল বের করা হয় তা আমাদের দেহে বাসা বাঁধা দীর্ঘ মেয়াদী রিউমেটিক এবং পিঠে ব্যথা কমাতে বেশ সাহায্য করে। এছাড়াও সাধারণভাবে কালোজিরা খেলেও অনেক উপকার পাওয়া যাবে। শিশুর দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধিতে: দুই বছরের অধিক বয়সী শিশুদের কালোজিরা খাওয়ানোর অভ্যাস করলে দ্রুত শিশুর দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি ঘটে। শিশুর মস্তিষ্কের সুস্থতা এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতেও অনেক কাজ করে কালোজিরা। দুই বছরের কম বয়সের বাচ্চাদের কালোজিরার তেল সেবন করা উচিত নয়। তবে বাহ্যিকভাবে ব্যবহার করা যাবে। দাঁত ব্যথা দূরীকরণে: দাঁতে ব্যথা হলে কুসুম গরম পানিতে কালোজিরা দিয়ে কুলি করলে ব্যথা কমে যাবে। কালোজিরা মুখের যেমন জিহ্বা, তালু, দাঁতের মাড়ির জীবাণু মেরে ফেলে। গর্ভাবস্থায় ও দুই বছরের কম বয়সের বাচ্চাদের কালোজিরার তেল খাওয়ানো উচিত নয়। তবে বাহ্যিক ভাবে ব্যবহার করা যাবে।

মাথায় চুল গজাতে কালোজিরা ব্যবহার করবেন যেভাবে

চুল ছাড়া চেহারার সৌন্দর্য অনেকটাই ম্লান হয়ে যায়। তাই যাদের মাথায় চুল কম; তারাই বুঝতে পারেন চুল না থাকার কষ্ট কতটা! অনেকেই এখন হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট বা উইগ ব্যবহার করে টাক ঢেকে রাখেন। যদিও এসব উপায় বেশ ব্যয়বহুল এবং ঝামেলারও বটে। তার চেয়ে যদি প্রাকৃতিক উপায়ে চুল পড়া কমিয়ে মাথা টাক হওয়া থেকে ঠেকানো যায়, তাহলে কেমন হয়? অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে, এটা-সেটা তো কতই ব্যবহার করলাম; তবুও মাথায় চুল গজালো না মাথায়! আসলে সবটাই ধৈর্যের বিষয়। নিয়মিত চুল ও স্ক্যাল্পের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর ডায়েট ও ঘুম সবই প্রয়োজন রয়েছে চুল গজানোর ক্ষেত্রে। যখন কারো মাথার চুল পড়তে পড়তে টাক হওয়া শুরু হয়; তখনই তার উচিত জীবনযাত্রা পরিবর্তন করা। শারীরিক বিভিন্ন রোগের কারণে চুল দ্রুত পড়তে থাকে। তাই নতুন চুল গজাতে ও চুল পড়া কমাতে ব্যবহার করা উচিত ভেষজ উপকরণ। তেমনই এক উপাদান হলো কালোজিরা। মহৌষধ বলা হয়ে থাকে কালোজিরাকে। এর পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে সবারই কমবেশি জানা আছে। জেনে নিন কীভাবে কালোজিরা ব্যবহার করবেন চুলের বৃদ্ধিতে- কালোজিরার তেল: কালোজিরার তেল ব্যবহারে নতুন চুল গজায়। চুলের ফলিকগুলো শক্তিশালী করে। এই তেল প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবেও কাজ করে। এ ছাড়াও মাথার ত্বকের শুষ্কতা কমায়, যার ফলে দ্রুত চুল পড়া বন্ধ হয়। ব্যবহারের জন্য কালোজিরা তেল এক হাতের তালুতে নিন। এবার আরেক হাতের আঙুলের সাহায্যে মাথার চুল কম আছে এমন অংশে অথবা টাক স্থানে ১৫ মিনিট রেখে ম্যাসেজ করুন। আধা ঘণ্টা পরে ধুয়ে ফেলুন। আপেল সিডার ভিনেগার এবং কালোজিরার তেল: চুলের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে ও খুশকিমুক্ত করতে আপেল সিডার ভিনেগারের তুলনা নেই। যদি আপনি এটি কালোজিরা সঙ্গে ব্যবহার করেন; তাহলে এর পুষ্টিগুণ আরও বেড়ে যাবে। চুলের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে এ মিশ্রণটি। এজন্য আস্ত কালোজিরা পানিতে মিশিয়ে ফুটিয়ে নিন। মিশ্রণটি ঠান্ডা হয়ে গেলে ছেঁকে নিন পানিটুকু। এরপর এতে ভিনেগার মিশিয়ে চুলে ও স্ক্যাল্পে ব্যবহার করুন। কয়েক ঘণ্টা রেখে বা পরের দিন শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ভালো ফলাফলের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ দিন এ পদ্ধতি অনুসরণ করুন ২ মাস। জলপাই এবং কালোজিরা তেল: এ দুই তেলে পাওয়া অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল যৌগ। যা চুল পড়া রোধে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। ব্যবহারের জন্য একটি পাত্রে জলপাই এবং কালোজিরার তেল মিশিয়ে নিন। এবার মাথার টাক বা কম চুল রয়েছে এমন স্থানে লাগিয়ে ম্যাসেজ করুন। এ তেলের মিশ্রণ নিয়মিত ব্যবহারের ফলে চুল পড়ার সমস্যা অনেকটা নিয়ন্ত্রণে থাকবে। মেহেদি ও কালোজিরার প্যাক: চুলের ক্ষেত্রে মেহেদির উপকারিতা সবারই কমবেশি জানা। কালোজিরা প্রদাহনাশক হিসেবে কাজ করে। এজন্য মাথার ত্বকের ব্যাধি এবং চুলের গোড়া শক্তিশালী করে এ প্যাক। ব্যবহারের জন্য মেহেদি গুঁড়ো এবং কালোজিরার গুঁড়ো একসঙ্গে মিশিয়ে চুলের গোড়ায় ব্যবহার করুন। আধা ঘণ্টা রেখে দিন এবং পরে শাম্পু করে চুল ধুয়ে ফেলুন। নারকেল তেল এবং কালোজিরা: নারকেল তেলে অ্যান্টি-ফাঙ্গাল এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান রয়েছে। যা মাথার ত্বকের বিভিন্ন ছত্রাকের বিরুদ্ধে লড়াই করে। যদি কোনো চর্মরোগের কারণে আপনার চুল পড়তে থাকে; তাহলে কালোজিরার সঙ্গে নারকেল তেল মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। এজন্য ১ টেবিল চামচ কালোজিরার গুঁড়ো বা তেলের সঙ্গে ১ চামচ নারকেল তেল মিশিয়ে নিন। আপনি চাইলে মধুও যোগ করতে পারেন। এ মিশ্রণটি টাকের স্থানে অথবা চুলের গোড়া থেকেআগা পর্যন্ত ব্যবহার করুন। এরপর হালকা গরম তোয়ালে দিয়ে মাথা ঢেকে রাখুন প্রায় ২০ মিনিট। সপ্তাহে কমপক্ষে একবার এ প্যাকটি ব্যবহার করুন। কালোজিরার তেল এবং লেবুর রস: ভিটামিন সি সমৃদ্ধ লেবুর রস স্বাস্থ্য-ত্বক ও চুলের জন্য খুবই উপকারী। কালোজিরা তেলের সঙ্গে যদি আপনি লেবুর রস মিশিয়ে মাথার ত্বকে ব্যবহার করেন; তবে দ্রুত চুল পড়া বন্ধ হয়ে নতুন চুল গজাবে। কালোজিরায় থাকা অক্সিডেন্ট চুল পড়া রোধ করে। চুলের বৃদ্ধি বাড়ায় এবং চুল পড়া নিরাময় করে। এজন্য মাথার যেসব অংশে চুল কম, সেখানে এ মিশ্রণটি ব্যবহার করুন। ১৫ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। এরপর চুল শুকিয়ে গেলে স্ক্যাল্পে কালোজিরার তেল ব্যবহার করুন।

কালিজিরার তেলের এই গুণের কথা জানতেন তো

কালিজিরা তেলে আছে প্রচুর অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট। গবেষণা বলছে, রক্তচাপ ও রক্তের চর্বি নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করতে পারে এই তেল; অ্যাজমা ও ডায়াবেটিস রোগীরাও উপকার পেতে পারেন; ওজন কমাতে ও মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ঠিক রাখতেও এই তেল সহায়তা করে। অন্যদিকে সৌন্দর্যচর্চায় দারুণ উপকারী এই তেল। হারমনি স্পার আয়ুর্বেদিক রূপবিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানা জানান, কালিজিরার তেল সরাসরি ত্বক ও চুলে ব্যবহার করা উচিত নয়। কারণ, এটি বেশ অম্লীয়। তাহলে ত্বক ও চুলের যত্নে কীভাবে কালিজিরার তেল কাজে লাগানো যায়, তা–ও বিস্তারিত জানান তিনি। চুলের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে ও কম বয়সে চুল পাকা ঠেকাতে সমপরিমাণ কালিজিরার তেল, ক্যাস্টর অয়েল ও নারকেল তেল নিন। তিন রকমের তেল একসঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে মাথার ত্বক ও চুলে লাগান। অন্তত আধা ঘণ্টা রাখুন। সারা রাত রেখে দিলেও ক্ষতি নেই। সপ্তাহে দু–তিনবার করে একটানা অন্তত দুই থেকে তিন মাস ব্যবহার করুন। সারা বছর ব্যবহার করলেও ক্ষতি নেই। ত্বকের দাগছোপ কমাতে কালিজিরার তেল ও কাঠবাদামের তেল সমপরিমাণে নিন। এই দুটি তেল একসঙ্গে ভালোভাবে মেশালে ক্রিমের মতো হয়ে যাবে। এই ক্রিম তিন বেলা ব্যবহার করতে পারেন। একবার তৈরি করে বছরজুড়েই ব্যবহার করতে পারবেন এই ক্রিম। কাচের কৌটায় করে ফ্রিজে রাখলেই হবে। শীতে বাইরে রাখলেও ক্ষতি নেই। তবে দাগছোপ চলে গেলে এই ক্রিমের আর প্রয়োজন হয় না। আপনার ত্বক যদি তৈলাক্ত প্রকৃতির হয় কিংবা দাগছোপ খুব বেশি থাকে, তাহলে কাঠবাদাম তেলের দ্বিগুণ পরিমাণ কালিজিরা তেল দিয়ে ক্রিম তৈরি করতে পারেন। ব্রণ দূর করতে সমপরিমাণ কালিজিরার তেল ও মধু নিন। হাত দিয়ে মিশিয়ে ব্রণের জায়গায় লাগিয়ে ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। চাইলে সারা রাত লাগিয়ে রেখে সকালেও ধোয়া যায়। ব্রণ সেরে যাওয়া অবধি রোজ প্রয়োগ করুন। মিশ্রণ তৈরির পর রোজ ব্যবহারের জন্য কাচের কৌটায় করে রেখে দিতে পারেন। ত্বকের ময়েশ্চারাইজারের জন্য ব্যবহার করতে চাইলে কালিজিরার তেল আর গ্লিসারিন সমপরিমাণে নিয়ে ভালোভাবে বিট করে ক্রিম বানিয়ে নিন। ত্বক তৈলাক্ত প্রকৃতির হলে কিংবা একটু বেশি দাগছোপ থাকলে গ্লিসারিনের দ্বিগুণ পরিমাণ তেল নিন। তেলের সঙ্গে চাইলে অ্যালোভেরা জেলও মিশিয়ে নিতে পারেন। যতটা গ্লিসারিন নেওয়া হয়েছে, ততটাই জেল নিতে হবে। এই ক্রিম রোজ রাতে ত্বকে লাগাতে হবে। চাইলে দিনেও লাগাতে পারেন। সারা বছরের জন্য কাচের কৌটায় করে ফ্রিজে রেখে দিন। শীতকালে বাইরেও রাখতে পারেন। এই ক্রিম বলিরেখার জন্যও উপকারী। কালিজিরার তেল খেতে চাইলে কালিজিরার তেল খাওয়ার উপায় জানালেন রন্ধনশিল্পী সিতারা ফেরদৌস এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে ১ চা–চামচ কালিজিরার তেল মিশিয়ে খেয়ে নিতে পারেন। মধু কিংবা তুলসী পাতার রসের সঙ্গে মিশিয়েও কালিজিরার তেল খেতে পারেন। এ ক্ষেত্রে ১ চা–চামচ কালিজিরার তেলের সঙ্গে মধু কিংবা তুলসী পাতার রস নেবেন ৪ চা–চামচ। কমলার রস কিংবা পুদিনা পাতার রসের সঙ্গেও কালিজিরার তেল মিশিয়ে নিতে পারেন। এ ক্ষেত্রেও কমলার রস বা পুদিনা পাতার রস নিতে হবে ৩ চা–চামচ আর কালিজিরার তেল ১ চা–চামচ। রান্নায় ফোড়ন দেওয়ার পরিবর্তে পদটি চুলা থেকে নামানোর আগে কালিজিরা তেল দিয়ে নিতে পারেন। সেদ্ধ খাবার চুলা থেকে নামানোর আগেও কালিজিরা তেল যোগ করতে পারেন। নানা রকম ভর্তা ও সালাদ বানাতে কিংবা মুড়ি মাখাতে শর্ষের তেল বা অন্যান্য তেলের বিকল্প হিসেবে কালিজিরা তেল কাজে লাগাতে পারেন।

শারীরিক নানা সমস্যায় উপকারি কালোজিরার তেল

নানা রকমের অসুস্থতা ও রোগ সারাতে বিশ্বজুড়ে শতশত বছর ধরে কালোজিরা ব্যবহার করা হচ্ছে। গবেষণায়ও বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে কালোজিরার কার্যকারিতা পাওয়া গেছে। এটি বীজ হিসেবে যেমন উপকারী, তেমনি তেল হিসেবেও। অনেকেই কিছু শারীরিক সমস্যায় কালোজিরার তেল ব্যবহার করেন। এর পক্ষে গবেষকদেরও মত রয়েছে, অর্থাৎ আধুনিক বিজ্ঞানের সমর্থন আছে। এই তেল কেবল ব্রণের প্রাদুর্ভাব কমায় না, উচ্চ রক্তচাপেও বেশ সহায়ক হতে পারে। এছাড়া অন্যান্য চমকপ্রদ উপকার তো রয়েছেই। এখানে কালোজিরা তেলের সাতটি উপকারিতা তুলে ধরা হলো। * উচ্চ রক্তচাপ কমায়: চারটি গবেষণার একটি রিভিউ বলছে, কালোজিরার তেল রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে।প্রাপ্তবয়স্করা অর্ধ চা-চামচ করে দিনে দু’বার কালোজিরার তেল খাওয়াতে রক্তচাপে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখেছেন। কালোজিরার তেল রক্তচাপ কমায় কেন তা সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা এখনো নিশ্চিতভাবে জানেন না। তবে তারা ধারণা করছেন যে, এই তেলের উচ্চ থাইমোকুইনোন রক্তচাপ কমানোর নায়ক হতে পারে। অনলাইন মেডিক্যাল প্র্যাকটিস পালোমা হেলথের পুষ্টিবিদ আরিকা হোশেট বলেন, ‘থাইমোকুইনোন প্রদাহ কমাতে পারে। এটাই হয়তো রক্তচাপ ব্যবস্থাপনায় অবদান রাখে।’ * কোলেস্টেরল কমায়: নিউবারি স্ট্রিট নিউট্রিশনের প্রতিষ্ঠাতা ও পুষ্টিবিদ স্কাইলার গ্রিগস বলেন, ‘কালোজিরার তেলে প্রচুর পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে, যা আমাদের শরীরে উপকারী কোলেস্টেরল বাড়ায় এবং ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল কমায়।’ একটি গবেষণায় যেসব স্থূল নারী প্রতিদিন ৩ গ্রাম করে আট থেকে ১২ সপ্তাহ কালোজিরার তেল খেয়েছেন তাদের ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল (এলডিএল) সেসব নারীর তুলনায় বেশি কমেছিল যারা কালোজিরার তেল সেবন করেননি। উল্লেখ্য যে, এসময় উভয় গ্রুপই লো ক্যালরি ডায়েটের ওপর ছিলেন। অন্য একটি গবেষণায়ও টাইপ ২ ডায়াবেটিস রোগীরা প্রতিদিন ৩ গ্রাম করে ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত কালোজিরার তেল খাওয়াতে এলডিএল কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লাইসেরাইড উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমেছিল। উচ্চ মাত্রার এলডিএল কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লাইসেরাইড উভয়েই হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। * ওজন নিয়ন্ত্রণে আনে: কিছু গবেষণা বলছে, কালোজিরার তেল স্থূল ব্যক্তি বা টাইপ ২ ডায়াবেটিস রোগীদের বডি মাস ইনডেক্স (বিএমআই) কমাতেও সাহায্য করতে পারে। তবে বিজ্ঞানীরা এখনো নিশ্চিতভাবে কিছু জানাননি। একটি গবেষণায় স্থূল নারীদের একটা গ্রুপকে প্রতিদিন ৩ গ্রাম করে ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত কালো জিরার তেল সেবন করানো হয় এবং আরেকটা গ্রুপকে প্লাসেবো (যার কোনো থেরাপিউটিক ভ্যালু নেই) দেওয়া হয়। দেখা গেছে, প্রথম গ্রুপের নারীদের উল্লেখযোগ্য হারে ওজন কমেছে। গবেষণাকালে উভয় গ্রুপই লো ক্যালরি ডায়েট গ্রহণ করেছিল। আরেকটি গবেষণায়ও ওজন কমানোতে কালোজিরা তেলের প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে- গড়ে ৪.৪ পাউন্ড বা ২.১ কিলোগ্রাম ওজন কমেছে। * ব্রণ সারায়: ত্বকের প্রদাহ কমিয়ে ব্রণ সারাতেও কালোজিরার তেল প্রয়োগ করতে পারেন। ব্রণের স্থানে ২০ শতাংশ কালো জিরার তেল সমৃদ্ধ ক্রিম মেখে চমকপ্রদ ফল পাওয়া গেছে। গবেষণায় একটি গ্রুপকে ২০ শতাংশ কালোজিরা তেলের লোশন ও আরেকটি গ্রুপকে ৫ শতাংশ বেনজোয়েল পারঅক্সাইড লোশন দেওয়া হয়েছে। উভয়েই ব্রণ কমাতে ও সারাতে সমান কার্যকর ছিল। উভয়ের মধ্যে কালোজিরা তেলের লোশনে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (যেমন- জ্বালাপোড়া ও চুলকানি) কম ছিল। * ত্বককে আর্দ্র করে: কালোজিরার তেল মাখলে ত্বকে আর্দ্রতা আসে ও কিছু চর্মরোগ (যেমন- একজিমা) প্রশমিত হয়। তবে এই বিষয়ে গবেষণা এখনো সীমিত। একটি গবেষণায় দিনে দু’বার করে চার সপ্তাহ কালোজিরার তেল প্রয়োগে হাতের একজিমা কমে এসেছে। এটা ওভার-দ্য-কাউন্টার ইউসেরিন লোশন ও প্রেসক্রিপশন টপিক্যাল স্টেরয়েড বিটামিথাসোনের মতোই কার্যকর ছিল। * চুল গজাতে সাহায্য করে: অনেকেই জানান যে, কালোজিরার তেল ব্যবহারে চুল আরো ঘন হয়েছে ও চুল পড়া কমেছে।তবে এই দাবিকে সত্যায়নের জন্য এখনো পর্যন্ত বলিষ্ঠ গবেষণা নেই। গবেষকদের মতে, কালোজিরার তেলে বিদ্যমান প্রোটিন ও ফ্যাটি অ্যাসিড রক্ত চলাচল বাড়িয়ে চুল গজাতে বা বিকাশসাধনে উদ্দীপনা যোগায়। একটি গবেষণায় শেভ করা মাথার চার স্থানে নারকেল তেল ও কালোজিরা তেলের মিশ্রণ এবং নারকেল তেল ও অন্যান্য তেলের মিশ্রণ দেওয়া হয়েছে।দেখা গেছে, যেখানে নারকেল তেল ও কালোজিরা তেলের মিশ্রণ দেওয়া হয়েছে সেখানে চুলের ঘনত্ব অন্যান্য স্থানের তুলনায় বেশি। * শুক্রাণুর সংখ্যা বাড়াতে পারে: কিছু গবেষণা ধারণা দিচ্ছে, কালোজিরার তেল সেবন করলে অনুর্বর পুরুষদের শুক্রাণুর সংখ্যা বাড়তে পারে। একটি গবেষণায় অনুর্বর পুরুষদের একটি গ্রুপকে প্রতিদিন ২.৫ মিলি কালোজিরার তেল এবং আরেকটি গ্রুপকে প্লাসেবো দেওয়া হয়। আড়াই মাস পর দেখা গেছে, যারা কালোজিরার তেল খেয়েছেন তাদের শুক্রাণুর সংখ্যা তুলনামূলক বেড়েছে। এমনকি শুক্রাণুগুলোর গতিশীলতাও বেড়েছে। কীভাবে কালোজিরা তেল ব্যবহার করবেন? কালোজিরার তেল ক্যাপসুল বা লিকুইড হিসেবে সেবন করতে পারেন। পুষ্টিবিদ হোশেট কোল প্রেসড ১০০ শতাংশ বিশুদ্ধ কালোজিরা তেল ব্যবহার করতে পরামর্শ দিয়েছেন। তবে কালোজিরা তেল ব্যবহার সংক্রান্ত বিষয়ে ডায়েটিশিয়ান বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কিছু চিকিৎসকের মতে, দিনে ১-২ চা চামচ কালোজিরা তেল সেবন নিরাপদ। তবে পুষ্টিবিদ হোশেটের মতে, শুরুর দিকে ১/২ চা চামচ সেবন করা উচিত। এতে শরীর অ্যাডজাস্ট করতে সময় পাবে। যারা কালোজিরার তেল ব্যবহার করবেন না অধিকাংশ সুস্থ মানুষের জন্য কালোজিরার তেল নিরাপদ। কিছু লোকের ক্ষেত্রে এটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এই তেল কিছু ওষুধের সঙ্গে মিথষ্ক্রিয়া করতে পারে, যেমন- বিটা ব্লকার্স। তাই ওষুধের ওপর থাকলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা উচিত।কিডনিতে সমস্যা থাকলেও চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন আছে। এই তেল ব্যবহারে কিডনি ফেইলিউরের মতো ঘটনা ঘটেছে। সীমিত গবেষণার কারণে কালোজিরার তেল গর্ভবতী ও স্তন্যপান করানো নারীদের জন্য সুপারিশকৃত নয়। এই তেল ব্যবহারে কিছু মৃদু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে, যেমন- জ্বালাপোড়া বা চুলকানি (যখন ত্বকে ব্যবহার করা হয়), কোষ্ঠকাঠিন্য, বমি, বমিভাব ও পেটফাঁপা। স্বল্পমেয়াদে (তিন থেকে চার মাস) কালোজিরা তেল ব্যবহারে গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

চুল পড়া বন্ধ করে কালোজিরার তেল

চুল ভেঙে যাচ্ছে? সুন্দর ও ঝলমলে চুলের জন্য নিয়মিত ব্যবহার করতে পারেন কালোজিরার তেল। এটি চুল পড়া রোধ করতেও কার্যকর। কালোজিরার তেল সামান্য গরম করে চুলের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত ভালো করে ম্যাসাজ করুন। ১ ঘণ্টা পর মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সমপরিমাণ অলিভ অয়েল ও কালোজিরার তেল একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি চুলের গোড়ায় ঘষে ঘষে লাগান। আধা ঘণ্টা পর ভেষজ শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ক্যাস্টর অয়েলের সঙ্গে কালোজিরার তেল মিশিয়ে চুলে ব্যবহার করুন। ১ ঘণ্টা পর রেগুলার শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ১টি লেবুর রসের সঙ্গে ২ টেবিল চামচ কালোজিরার তেল মিশিয়ে রাতে ঘুমানোর আগে চুলে লাগান। পরদিন শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। আধা কাপ নারকেল তেল, ১ টেবিল চামচ মধু ও ১ টেবিল চামচ কালোজিরার তেল একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। চুলের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত মিশ্রণটি লাগিয়ে গরম তোয়ালে জড়িয়ে নিন মাথায়। ১ ঘণ্টা পর শ্যাম্পুর সাহায্যে ধুয়ে ফেলুন।

কেন ব্যবহার করবেন কালোজিরার তেল?

চুল পড়া বন্ধ করে। চুলের ভেঙে যাওয়া রোধ করে। রুক্ষতা দূর করে চুল ঝলমলে করে। চুলের অকালে পেকে যাওয়া রোধ করে। চুলের গোড়ায় রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। ফলে দ্রুত বাড়ে চুল।

চুলে কালোজিরার তেল লাগালে কী (উপকার) হয়?

চুলের যত্নে কালিজিরার তেল অনেক উপকারী। চুলে শুধু নারিকেল তেলই লাগাতে হবে এমন কোন কথা নেই, নানা রকম তেলের মিশ্রণে পাওয়া যায় আরো সতেজ এবং সুস্থ চুল। • সপ্তাহে এক বা দুই দিন কালিজিরার তেল ব্যবহার বিধি অনুযায়ী লাগানো যেতে পারে। • শুষ্ক চুলের জন্য ডিমের সাদা অংশের সাথে সামান্য কালিজিরার তেল মিশিয়ে লাগালে চুলের শুষ্কতা কমে আসে। • নিয়ম করে সপ্তাহে ২ বার এই তেল দিয়ে চুলের যত্ন করলে চুলের সজীবতা ফিরে আসে। • নতুন চুল গজানোর জন্য ১:১ অনুপাতে অলিভ অয়েল এবং কালিজিরার তেল মিশিয়ে চুলের গোড়ায় গোড়ায় ম্যাসাজ করে লাগিয়ে নিন। এর পর একটি নরম তোয়ালে কুসুম গরম পানিতে ভিজিয়ে এবং পানি নিংড়ে পুরো চুল মুড়িয়ে মাথায় লাগিয়ে রাখুন ৪০ থেকে ১ ঘন্টা সময়ের জন্য। নিয়ম করে সমতাহে ২ বার এভাবে চুলের যত্ন নিলে নতুন চুল গজায়। • চুলের দৈর্ঘ্য বাড়াতেও এই তেল উপকারে আসে। • এই তেল চুলের উকুন কমাতেও সাহায্য করে।

RECOMMENDED FOR YOU

Sale 20%

খাঁটি খেজুরের গুড়

  • ৳1500 ৳ 1800

Sale 15%

চিয়াসিড 2KG

  • ৳980 ৳ 1127

সরিষা ফুলের মধু 1 কেজি

  • ৳490

বরই ফুলের মধু 500 gram

  • ৳340

Sale 10%

লিচু ফুলের মধু 2 kg

  • ৳1100 ৳ 1210